মহানায়ক
একটা সময় ছিল, যখন আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকতাম একটা অমলিন মন ভালো করে দেওয়া নিপাট হাসির জন্য। ঘাড়টা সামান্য বাঁকিয়ে একুল অকুল ভাসিয়ে দেওয়া অনলান্তিক চাহনি, এক টুকরো সংলাপ যা আমাদের হাসতে পারতো, কাঁদাতে পারতো আর আজও বুঝিয়ে দিতে পারে, আদতে আমরা কিন্তু দিনের শেষে সেই বাঙালিই।
প্রধান চরিত্রে তিনি যেমন ছিলেন অনস্বীকার্য, তেমনি অপেক্ষাকৃত ছোট কিংবা সহ-অভিনেতার ভূমিকাতেও তিনি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে তাঁর প্রভাব আজও বাঙালির জীবনযাত্রায়। অজান্তেই তাঁর মতো করে কথা বলতে শিখেছি, তাঁর ভঙ্গিতে হাসতে, তাঁর মতো করে পোশাক পরে, চুল আঁচড়ে, এমনকি আমরা সিগারেট ধরানোর ভঙ্গিও অনুকরণ করেছি।
তাই আজ বোধ হয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে তাই সহজেই দুই ভাগে ভাগ করা যায়—উত্তম-পূর্ব এবং উত্তম-পরবর্তী যুগ। এই বিভাজন কেবল সময়ের নয়, অভিনয়-দর্শন, নায়কের চরিত্রায়নের। শহুরে মধ্যবিত্ত বাঙালির সংকোচ, প্রেম, দ্বিধা, স্বপ্ন ও ভদ্রতা যেমন তিনি নির্মাণ করেছেন, তেমনি গ্রামবাংলার সহজ-সরল মানুষ, তাদের আবেগ, হাসি-কান্না, সংগ্রাম ও মানবিকতাকেও সমান সাবলীলতায় রূপ দিয়েছেন। হয়ত চরিত্র বদলেছে, পরিবেশ বদলেছে—কিন্তু তার উপস্থিতি চিরকালীন উজ্জ্বল। সময়ের বিচারে তাঁর শারীরিক অনুপস্থিতি আজ চার দশক হয়ে গেল। কিন্তু উত্তম কুমার আজও বাঙালির মননে সমভাবে বর্তমান। আর তাই পর্দার গণ্ডী পার করে তিনি আমাদের চিরদিনের মহানায়ক।
হুতুম প্যাঁচা তাই দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলে , উত্তম আজও আছে বাঙালির সাথে।