ঠাকুর ঠাক্ রুণ
বাঙালির আধ্যাত্মিকতার শিকড় প্রোথিত তার লোকায়ত ভূমিজ চেতনায়। তাই আমাদের ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তি যেমন বেদ বেদান্ত, সাঙ্খ্য দর্শন পৌরাণিক দেব দেবী, মহাকাব্য ঠিক তেমনি গ্রামের বটগাছের নিচে বসে থাকা বুড়ো শিব, ধর্ম ঠাকুর, মঙ্গলকাব্য, লোকায়ত দেব দেবী, মা শীতলা, মনসা, নীল ষষ্ঠি, ঘন্টকর্ণ, পঞ্চানন দেব, মাশান দেবতা আমাদের পূজ্য, ধর্মীয় চেতনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বাংলার আধ্যাত্মিকতার ইতিহাস কোনো একক ধর্ম, শাস্ত্র বা সময়ের ইতিহাস নয়; সহস্রাব্দব্যাপী নানা জাতি, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও জীবনদর্শনের মিলনে গড়ে ওঠা এক বহমান ঐতিহ্য। এখানে দেবতা কেবল মন্দিরের বিগ্রহে নন; বাঙালির প্রাণের ঠাকুরণ ধান কাটা রিক্ত মাঠের প্রান্তে , নদীর ঘাটে, শ্মশানে, জঙ্গলে, গ্রামবাংলার উঠোনে মেয়ে উমা রূপে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছেন। বর্তমানের তাৎক্ষণিকতায় ভূলে যাওয়া সেইসব রূপকথা, ব্রত, আচার, প্রতীক, ঠাকুর ও বিশ্বাসকে শতসহস্র বছর ধরে গড়ে উঠেছে যা বাংলার আত্মপরিচয়, সেই লোকায়ত চেতনা—যেখানে প্রকৃতি, মানুষ, দেবতা এবং সমাজ একে অপরের থেকে আলাদা নয় - একই ধারাপাতের অংশ, তার অনুধাবন এই ‘ঠাকুর ঠাক্ রুণ’।